
বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার বিকেলে রাজধানীর Square Hospital-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। একাধিকবার তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেখানেই তার জীবনাবসান ঘটে।
তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার বিকেল চারটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি ১৯৬৭-৬৯ মেয়াদে Dhaka University Central Students’ Union (DUCSU)-এর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রিপদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তিনি ছিলেন Bangladesh Awami League-এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। দলীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দেশের অন্যতম প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হবে। আগামীকাল মরদেহ নিজ জেলা ভোলা-য় নেওয়া হবে। জোহরের নামাজের পর ভোলা জেলা স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দেশের রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে সক্রিয় থাকা এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



