
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছেন Masoud Pezeshkian। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে Iran প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আগ্রাসন যাতে না ঘটে সে বিষয়ে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি ছাড়া স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (formerly Twitter)-এ এক পোস্টে রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান সংঘাতের পেছনে মূল উসকানিদাতা হিসেবে কাজ করছে ‘জায়নিস্ট শাসকগোষ্ঠী’ এবং United States। তার মতে, এ ধরনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই যেকোনো শান্তি প্রক্রিয়ার আগে আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইরানি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকার করতে হবে। পাশাপাশি চলমান সংঘাতের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের হামলা বা সামরিক আগ্রাসন না ঘটে, সে বিষয়ে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, কেবলমাত্র কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং বাস্তবসম্মত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিয়েই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অবস্থান মূলত চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অংশ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেখানে ইরান তার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিতে চাইছে। ফলে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর মধ্যস্থতা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এদিকে Russia ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং সংঘাত নিরসনে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ ও সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে তেহরান তার শর্তের বিষয়ে অনড় অবস্থানে থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের এই অবস্থান ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। কারণ যুদ্ধবিরতি বা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে আন্তর্জাতিক সমঝোতা প্রয়োজন, সেখানে ইরানের উত্থাপিত শর্তগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংকট সমাধানে আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।



