সারা দেশে শুরু হয়েছে আলোচিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে পুলিশ বাহিনী, যাদের সহায়তা করছে সেনাবাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টাকারীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা এই অপারেশনের মূল লক্ষ্য।
‘ডেভিল’ শব্দের অর্থ ঘিরেও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। ইন্টারনেটের বিভিন্ন সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘ডেভিল’ অর্থ ‘শয়তান’ বা ‘অশুভ শক্তি’। মার্কিন অধ্যাপক জেফরি বার্টন রাসেলের মতে, শয়তান হলো এক ধরনের মন্দ শক্তি, যা মানুষের অন্যায়ের প্রতীক। এই অপারেশনের আওতায় আসা ‘ডেভিল’ কারা, তা নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, "ডেভিল মানে শয়তান। যারা বেশি করে শয়তানি করবে, তাদের ধরতেই এই অভিযান।" খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের মতে, "ডেভিল হলো তারা, যারা সমাজের জন্য শত্রু, যেকোনো অপরাধীই ডেভিল।"
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কাজী আখতারউল আলম জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট মামলার আসামি, দুষ্কৃতিকারী, সমাজবিরোধী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালিত হবে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই হয়রানির শিকার হবেন না। একই বক্তব্য দিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, যিনি বলেছেন, "যারা শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের চেষ্টায় লিপ্ত, তারাই ডেভিল।"
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, "অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। গ্রেফতার শুরু হলে বোঝা যাবে কারা ‘ডেভিল’। তবে এ অভিযান কোনো দল বা মতের বিরুদ্ধে নয়।"
অন্যদিকে, মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন এই অভিযানের নাম ও কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ একটি ভয়াবহ সামরিক ভাষা, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কা তৈরি করে। আইন ও আদালতের অনুপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন নিজেরাই আইন হয়ে না ওঠে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।”
স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি অবশ্য জানিয়েছেন, এই অপারেশন একটি সমন্বিত উদ্যোগ, যার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টাকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এই ধরনের অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে অবশ্যই আইন, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচারের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।