বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে মার্কিন অভিযান, বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোরুক ও কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে...

আন্দোলন দমনে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সমর্থকদের সমন্বিত হামলা

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশিত এক তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সমর্থকদের সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলীয় ক্যাডাররা পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

ওএইচসিএইচআরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের সদস্যসহ বিভিন্ন মধ্যবয়সী সমর্থকেরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে হামলায় অংশ নেন। বিভিন্ন অভিযানে তারা পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে কিংবা পেছনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দমনে সহায়তা করেন। কিছু ক্ষেত্রে তারা পথচারীদের তল্লাশি, আন্দোলনকারীদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার মতো কাজও করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যাত্রাবাড়ী থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা অবস্থান নেন। আন্দোলন দমনে পুলিশের রাজনৈতিকীকরণের ফলে দলীয় ক্যাডারদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে সুযোগ তৈরি হয়। পুলিশের সহযোগিতায় ১৮ জুলাই থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারও শুরু হয়।

ওএইচসিএইচআরের কাছে বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক স্বীকার করেছেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯৫ জন পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগের অনুমোদিত সংগঠনের সদস্যরা আন্দোলন দমন অভিযানে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জন ছিলেন সংসদ সদস্য, ১৪ জন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, ১৬ জন যুবলীগ নেতা, ১৬ জন ছাত্রলীগ নেতা ও সাতজন পুলিশ কর্মকর্তা।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ১৯ জুলাই উত্তরা, রায়েরবাগ ও সংসদ ভবনের সামনে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সমর্থকেরা হামলা চালান। এ সময় কয়েকটি ঘটনায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যাতে কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। ২ আগস্ট উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলের সামনে, ৩ আগস্ট কুমিল্লা ও ৪ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের সহযোগিতায় সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।

৫ আগস্ট খুলনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়ি থেকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়, যেখানে অন্তত ১৭ জন আহত হন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলা সুপরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় দলীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্দোলন দমনে সহিংসতার এই কৌশল রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারে এবং তাদের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছিল। এসব গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেন, “আমরা যে সাক্ষ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করেছি, তা ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও লক্ষ্যবস্তু হত্যার একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর এবং যা আন্তর্জাতিক অপরাধের পর্যায়েও পড়তে পারে। জাতীয় ক্ষত উপশম এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য এসব ঘটনার দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বিচার অপরিহার্য।”

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, নিরাপত্তা ও বিচার খাতের সংস্কার, দমনমূলক আইন ও নীতি বাতিল, এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করা।