চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে হাতির আক্রমণে নিহত ৩ মাসের শিশু আরমান জাওয়াদের পরিবার পরিদর্শনে গেছেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা, চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য্য, কর্ণফুলী থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফ ও সেনাবাহিনীর একটি টিম। শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুরে তারা নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সান্ত্বনা জানান এবং আহত মা খতিজা বেগমের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৫০ জনের একটি বিশেষ রেসকিউ টিম হাতি অপসারণের জন্য মাঠে নামবে। পর্যায়ক্রমে হাতিগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে এবং বন্যপ্রাণীর আক্রমণ যেন আর কোনো বড় ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাবে।
কর্ণফুলী থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফ বলেন, "আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু তৃতীয় পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আবেগকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। প্রশাসন এটাকে কোনোভাবেই সুযোগ দেবে না। সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি এবং বন বিভাগের কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে বলছি।"
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত এক দশক ধরে একই সমস্যায় ভুগছেন তারা। প্রতিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস মিললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়নি। একাধিকবার বিক্ষোভ ও অবরোধের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি, যার ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ও ক্ষোভের মধ্যে রয়েছেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এবার বন বিভাগ বাস্তবিক অর্থেই কাজ করবে এবং হাতি সরানোর বিষয়টি দৃশ্যমান হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
এদিকে, নিহত শিশুর পিতা বলেন, "আমরা সরকারের কাছে কোনো ভিক্ষা চাই না, চাই সমস্যার স্থায়ী সমাধান। আমার সন্তানের মতো আর কারও বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়। প্রশাসনকে অনুরোধ করবো, এবার যেন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়।"
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২১ মার্চ) রাত ১টার দিকে উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের শাহমীরপুর জমাদার পাড়া এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণে ৩ মাস বয়সী মোঃ আরমান জাওয়াদ নিহত হয়। একই ঘটনায় শিশুটির মা খতিজা বেগম গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।