চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর এলাকায় জনসাধারণের চলাচলের ঐতিহ্যবাহী রাস্তা মেরামত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সী-রিসোর্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও হস্তচালিত বড় সাম্পান শ্রমিকরা। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে কর্ণফুলী নদীর তীরে ইছানগর বড় সাম্পান ঘাট এলাকায় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, কর্ণফুলী নদীতীরবর্তী লামার দোকান খাল থেকে হাজী আব্দুল মজিদ দারোগা সড়ক ও বড় সাম্পান ঘাটটি প্রায় ১৮৮২ সাল থেকে জনসাধারণের চলাচল ও নৌযান নোঙরের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই ঘাট ও সড়ক শুধু স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রায় ৫০০ পরিবার এই ঘাটকে কেন্দ্র করে বড় সাম্পান চালনা ও সংশ্লিষ্ট শ্রমের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৩০–৪০ বছরে সী-রিসোর্স গ্রুপ ধীরে ধীরে ঘাট ও সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি মূল সড়কটি বন্ধ করে ঘাট ও সাম্পান শ্রমিকদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এলাকাবাসীর উদ্যোগে জনচলাচলের রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হলে সী-রিসোর্স কর্তৃপক্ষ অনৈতিকভাবে কাজে বাধা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ ওঠে।
বক্তারা আরও জানান, রাস্তা মেরামতকে কেন্দ্র করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সী-রিসোর্স কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করছে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই সড়ক ও ঘাট মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গেও জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে এই পথ ব্যবহার করে আসছে। হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধ বা দখলের চেষ্টা শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াবে না, বরং শত শত পরিবারের রুজি-রুটির ওপর সরাসরি আঘাত হানবে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের পেটে লাথি মারার চেষ্টা করা হলে কঠোর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।”
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে সী-রিসোর্স কোম্পানির ডকইয়ার্ডে জাহাজ মেরামতের সময় স্যান্ড-ব্লাস্টিং কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের অভিযোগও তোলা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, এসব কার্যক্রমের ফলে নদীর পানি, আশপাশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মোঃ আব্দুল আলী এবং সঞ্চালনায় ছিলেন আকিব জাভেদ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মন্নান, নুর হোসেন, আবুল বশর, আবু কালাম, তরাব আলী, আব্দুল জলিল, আলতাব, রুবেল, ফরিদ, মোঃ শরীফ, হাকিম আলী, জানে আলম, হাফেজ আহমদ, মনির আহমদ, নজরুল, শহর আলীসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ।
এ বিষয়ে সী-রিসোর্স কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে জনস্বার্থ রক্ষা, ঐতিহ্যবাহী সড়ক ও ঘাট সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ও জীবিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।