চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর বাংলাবাজার ঘাট সাম্পান টেম্পু মালিক সমিতির ১৫তম সাধারণ নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১ অক্টোবর) রাত নয়টায় সমিতির কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইঞ্জিনিয়ার মির্জা মোঃ ইসমাইল এ তফসিল ঘোষণা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সচিব ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এস. এম. পেয়ার আলী, সহকারী কমিশনার আবুল কালাম, সহকারী কমিশনার ইমরান হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রকাশিত তফসিল অনুযায়ী, ১ অক্টোবর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে ২ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। ৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর যাচাই-বাছাই, ৮ অক্টোবর আপিল ও অভিযোগ গ্রহণ, ৯ অক্টোবর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা এবং ১০ অক্টোবর বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ১১ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ, ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা এবং ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটকেন্দ্র থাকবে সমিতির নিজস্ব অফিস কার্যালয়ে।
এবারের নির্বাচনে মোট ১৫টি পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে কার্যকরী সদস্য পদ রয়েছে ৪টি। সমিতির ২১৬ জন নিবন্ধিত ভোটার এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ইতোমধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু করেছেন। বিশেষ করে পূর্বের দুই সাবেক সভাপতি মোঃ লোকমান (দয়াল) ও মোহাম্মদ এনামুল হক পুনরায় সভাপতি পদে লড়ার ঘোষণা দিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। এতে করে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে।
এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমিতি এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় মাঝি সমাজ ও সাধারণ সদস্যরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, গণতান্ত্রিক পরিবেশে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনও এ ব্যাপারে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়।
কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস. এম. পেয়ার আলী বলেন, “কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এই নদীর মাঝি সমাজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিরলস পরিশ্রম করে আসছে। সরকারের উচিত তাদের অধিকার রক্ষায় আইন বাস্তবায়ন করা।” তিনি আরও বলেন, “ঘাটের প্রকৃত মালিকানা সংরক্ষণ ও মাঝিদের কল্যাণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা জরুরি।”
এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইঞ্জি. মির্জা মো. ইসমাইল জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। সমিতির ইতিহাসে এই নির্বাচনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ একদিকে পুরনো নেতৃত্ব আবারো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে, অন্যদিকে নতুন প্রার্থীরাও তাদের অবস্থান জানান দিতে প্রস্তুত।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হলে সমিতি আরও শক্তিশালী হবে এবং নদীভিত্তিক শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।