বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছেন একজন নতুন মুখ—ইধিকা পাল। ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ‘প্রিয়তমা’ সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন কলকাতার এই তরুণী। এরপর চলতি ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘বরবাদ’ সিনেমায়ও শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও পোক্ত করেছেন। দর্শকদের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—কে এই ইধিকা পাল?
ইধিকা মূলত একজন ভারতীয় অভিনেত্রী, যিনি পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘জি বাংলা’র সিরিয়াল ‘রিমলি’র মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ‘পিলু’ নামের আরেকটি ধারাবাহিকে ‘রঞ্জা’ চরিত্রে অভিনয় করে বিশেষ পরিচিতি পান। কলকাতার বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে তিনি অল্প সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে টিভি পর্দার সেই জনপ্রিয়তা বড় পর্দায় অনুপস্থিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গে এখনো কোনো চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়নি তার।
তবে, ইধিকার জন্য সৌভাগ্যের দরজা খুলে দেয় বাংলাদেশের সিনেমা ‘প্রিয়তমা’। ঢালিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খানের বিপরীতে সুযোগ পাওয়া ছিল অনেকটা স্বপ্ন পূরণের মতো। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েই নিজের অভিনয়ের দক্ষতা ও সৌন্দর্য দিয়ে নজর কাড়েন তিনি। সিনেমা মুক্তির পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে আলোচনার ঝড় বয়ে যায়। বাংলাদেশের তরুণ দর্শকরা তাকে বেশ পছন্দ করছেন, এমনকি ইউটিউবে তার সিনেমার গান বা ক্লিপে মিলছে লাখ লাখ ভিউ। ভারতীয় ইউটিউবাররাও তার প্রশংসা করছেন।
ইধিকা বলেন, “শাকিব খানের নাম আগে থেকেই জানতাম। উনি কলকাতায় কাজ করেছেন, আমরা দেখেছি। যখন জানতে পারলাম যে, আমার প্রথম সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করতে হবে—ভীষণ নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশে এসে এমন আন্তরিক পরিবেশ পেয়েছি, এমন সহযোগিতা পেয়েছি—মুগ্ধ না হয়ে পারিনি।”
মাত্র তিন বছরের টেলিভিশন ক্যারিয়ারে বড় কোনো ছবি ছাড়াই এমন একটা সুযোগ পাওয়া ছিল স্বপ্নের মতো। তাই তো পশ্চিমবঙ্গে তার এখনও কোনো বড় ফ্যানবেস না থাকলেও, বাংলাদেশে প্রিয়তমা মুক্তির পর পরিস্থিতি একেবারে বদলে যায়। সামাজিক মাধ্যমে তার ফলোয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে দ্রুত গতিতে। ইনস্টাগ্রামে এখন তার ফলোয়ার সংখ্যা ছাড়িয়েছে লক্ষাধিক, ফেসবুকেও তার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
শুধু জনপ্রিয়তাই নয়, ‘প্রিয়তমা’ মুক্তির পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন সিনেমার প্রস্তাব পাচ্ছেন ইধিকা। যদিও এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে নারাজ তিনি। বলেছেন, “চূড়ান্ত কিছু না হলে আগেভাগে কিছু বলবো না। তবে ভালো কিছু হলে অবশ্যই সবাইকে জানাবো।”
এই মুহূর্তে ইধিকার কাছে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হচ্ছে নিজেকে একজন সিরিয়াস পারফর্মার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “মানুষ ভালোবাসবে, আবার সমালোচনাও করবে। আমি দুটোকেই স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছি। কিন্তু আমি জানি, আমাকে আরও ভালো কাজ করতে হবে—নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।”
বাংলাদেশে তার রাজকীয় অভিষেক এবং পরপর দুটি সিনেমায় দর্শকপ্রিয়তা ইধিকার ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে, সেটা স্পষ্ট। দুই বাংলার চলচ্চিত্র জগতে এমন মেলবন্ধনের দৃষ্টান্ত খুব একটা দেখা যায় না। তাই এই উদীয়মান অভিনেত্রীর ভক্তরা এখন অপেক্ষায় আছেন—ইধিকা পাল পরবর্তী কোন সিনেমায়, কোন নায়কের বিপরীতে, কী চরিত্রে হাজির হচ্ছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইধিকা পাল এখন আর শুধুই কলকাতার ছোট পর্দার নায়িকা নন। তিনি এখন দুই বাংলার সিনেমার এক নতুন সম্ভাবনার নাম, যাকে ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।