
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খোয়াজনগর এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার পরিবারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক নির্যাতন, হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী রাশেদা বেগমের অভিযোগ, তিনি প্রায় ১৪–১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন। ২০১১ সালে জমি ক্রয় করে ২০১৩ সাল থেকে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর দ্বারা নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন বলে দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগে রাশেদা বেগম উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার সন্তানদের ভয়ভীতি দেখানো, কাজে বাধা দেওয়া, অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ, মারধর, মানহানি, এমনকি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। তার দাবি, জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ বারবার ওই রাস্তা নিজেদের দাবি করে তাকে হুমকি দিয়ে আসছে। সম্প্রতি ঘরের সামনের দরজা লাগানোর সময় মিস্ত্রির সামনে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়।
এ ঘটনায় গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি কর্ণফুলী থানায় প্রথম সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৯৩১) করেন। ওই জিডিতে তিনি রফিক আহমেদ, সালমা বেগম ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে হুমকি ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনেন। জিডির পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে পুলিশের সামনেই তাকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করা হয় এবং মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, পুলিশের উপস্থিতিতেই স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেন, তার চাচা রফিক আহমেদ ও চাচি সালমা বেগম ক্ষিপ্ত আচরণ করেন। এমনকি তার কন্যাসন্তানকেও অশ্লীল ভাষায় কথা বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।
এর মধ্যেই ১৮ জানুয়ারি দুপুরে থানায় আইনের আশ্রয় নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন রাশেদা বেগম। দ্বিতীয় দফা অভিযোগে তিনি জানান, সালমা বেগম ও তার ছেলে নাঈম তাকে এবং তার ছেলেকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠায়। চিকিৎসা শেষে মেডিকেল রিপোর্টসহ তিনি একই দিনে থানায় দ্বিতীয় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১০০৪) করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এর আগেও জমির অংশ দাবি করে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। বরং আইনের আশ্রয় নেওয়ায় প্রতিপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। থানায় গেলে প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি মীমাংসার নামে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় ব্যবহার করে থানায় বৈঠকের নামে বাদী পক্ষকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় এক জামায়াত নেতা পরিচয়ধারী শাহজাহান (ওরফে ওয়ালটন শাহজাহান) এবং কথিত সাংবাদিক পরিচয়ের এক ব্যক্তি তৎকালীন থানার ওসিকে ম্যানেজ করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রাশেদা বেগম জানান, বর্তমানে তিনি ও তার সন্তানরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি নিজেকে আরও অসহায় মনে করছেন। তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরিগুলোর ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।



