চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বলাকা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি বালুর মহলে চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন। শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে বড়উঠান ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম নতুন রাস্তা এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৪৬), মোমিনুর রশিদ চৌধুরী (৪৫), মো. হোসেন (৩৭), হাফিজুর রহমান লিটন (৪৭) এবং স্ক্যাভেটর ড্রাইভার সাদ্দাম (৩২)। এদের মধ্যে গুরুতর আহত লিটন, জাহাঙ্গীর এবং হোসেনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বলাকা ইন্টারন্যাশনালের মালিক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোমিনুর রশিদ চৌধুরীর কাছে ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। গতকাল রাতে চাঁদাবাজদের দলের একজনের মোবাইলে ফোন দিয়ে মালিককে দাবি জানানো হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরদিন দুপুরে ৩০/৪০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র নিয়ে বলাকার কার্যালয় ও মহল এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। কোপানো হয় কর্মরতদের, ছিনিয়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ। লুটে নেওয়া হয় প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ২৫০ লিটার ডিজেল, স্ক্যাভেটরের যন্ত্রাংশ এবং সিসি ক্যামেরা সিস্টেমও ধ্বংস করে ফেলে।
পরে ৯৯৯ এ কল দিলে দুপুরের দিকে একে একে পুলিশের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। প্রতক্ষ্যদর্শীরা অভিযোগ করেন, পুলিশের সামনে হামলাকারীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করেছে। তৎক্ষণাৎ পুলিশ যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করতো তবে এতো বড় ঘটনা ঘটতো না। এসময় দুর্বৃত্তরা পুলিশের একজন সদস্যের ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা জানান, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে থানায় এখনও লিখিত কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত নজরদারি চালাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনা যদি দৃষ্টান্তমূলকভাবে দমন না করা হয়, তবে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী হামলার সংস্কৃতি আরও বেড়ে যাবে।