চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ফাজিল খাঁ'র হাট পুরাতন বাজারে সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত কাংকর ও বালি রাতের আঁধারে গায়েব হয়ে গেছে। রবিবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাতে এসব নির্মাণসামগ্রী সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। পরদিন সোমবার সকালে বাজারজুড়ে এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও জনমনে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। জড়িতদের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভের প্রকাশ পায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড়উঠান ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বাহাদুর খানের নেতৃত্বে কাংকর ও বালি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাহাদুর খান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে ছিল এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান হওয়ার সত্তেও তিনি স্থানীয় এক জামায়াত নেতার আত্মীয় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ড্রাম ট্রাকে করে রাতের আঁধারে মালামাল সরানোর সময় মুন্না, মামুন, হাসানসহ কয়েকজন প্রভাবশালী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান ইউপি সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর বাজার সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়লে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিদারুল আলম ও ওয়ার্ডের পুরুষ-নারী সদস্যরা বিষয়টি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী ও তৎকালীন ইউএনওকে অবহিত করেন। সবার পরামর্শে বাজারের পূর্ব পাশে 'জোড়া দীঘি'র রাস্তা থেকে প্রায় ৫০ হাজার ইট তুলে তা ভেঙে কাংকর তৈরি করা হয় এবং কাজ শুরু হয়। কিছু অংশ ঢালাই দেওয়ার পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে এসব নির্মাণসামগ্রী বাজারের পাশে সংরক্ষিত ছিল। প্রকল্পের বিল হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা অফিসে প্রায় ৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বিল পাঠানো হলেও, পরিশোধ হয় মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাকি অর্থ ও মালামালের হিসাব আজও অজানা।
সম্প্রতি ইউপি সদস্য বাহাদুর খান দাবি করেন, “মালগুলো আমার, আমি সরিয়ে রেখেছি। কেউ অনুমতি দিতে হবে মনে করিনি। রাস্তায় কাজ শুরু হয়েছে, তাই সরিয়েছি। বিক্রি করিনি।” তবে স্থানীয়দের দাবি, মালামালের একটি অংশ বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশ পূর্ব পাশে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনার ব্যাপারে কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি মালামাল কিভাবে একজন ইউপি সদস্য নিজের দাবি করতে পারেন?