
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ও বৃহত্তম কোরবানির পশুর হাট মইজ্জ্যারটেকে এবার প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছে মরুভূমির জাহাজ খ্যাত উটের। বিশাল আকৃতির তিনটি উট আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাটে শুরু হয়েছে উৎসুক জনতার ঢল। যশোরের বেনাপোল থেকে আনা উটগুলো দেখতে সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। বিরল এই প্রাণীকে ঘিরে যেমন তৈরি হয়েছে দর্শনার্থীদের কৌতূহল, তেমনি জমে উঠেছে ক্রেতা-বিক্রেতার আলোচনা।
উটগুলো হাটে এনেছেন পশু ব্যবসায়ী মুন্টু মিয়া। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রাকৃতিক খাদ্যে এই উটগুলো লালন-পালন করছেন। প্রতিটি উট প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কেজি খাবার খায় এবং সুস্থ ও সচল রাখতে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উটের দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা, যা দেশের বাজারে একেবারেই নজিরবিহীন। উটের মতো বিরল প্রাণী কোরবানির পশুর হাটে দেখা যাবে — এমনটি আগে দক্ষিণ চট্টগ্রামে কেউ কল্পনাও করেননি। তাই এক নজর দেখার জন্য ভিড় করছেন নানা বয়সের মানুষ।
এই হাটে শুধু উটই নয়, দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে আনা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি গরু, যার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ চুয়াডাঙ্গার ৩০ মন ওজনের সাদা রঙের “ সাদা পাহাড়” নামের গরুটি। তবে এখনো কেনাবেচা শুরু না হলেও ক্রেতারা পশু যাচাই-বাছাইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

খাইন ব্যবসায়ী আকবর (মামা) জানান, “চট্টগ্রামের কোরবানির ঈদে বিশেষ উপহার হিসেবে মইজ্জ্যারটেক বাজারে প্রথমবারের মতো উট আমি সংগ্রহ করে এনেছি। শীঘ্রই আসছে আরও বড় সাইজের উট, দুম্বা, ভুট্টো গরু মতো আরও আকর্ষণীয় পশু। বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখে দেশের উত্তর অঞ্চলের বেপারীরা সন্তুষ্ট। শীঘ্রই বেচা বিক্রি শুরু হয়ে যাবে বাজারে।”
মইজ্জ্যারটেক পশুর হাটের ইজারাদার জসিম উদ্দিন জুয়েল জানান, “এবারের হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পশু সংগ্রহ করা হয়েছে। আবহাওয়া ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কয়েকশো স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবেন। জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন, স্বাস্থ্যসেবা, বেপারীদের জন্য থাকা, খাওয়া, টয়লেট ব্যবস্থা সহ বিশুদ্ধ পানি ও আলো ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এই হাটে পশু কেনাবেচা চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। ক্রমবর্ধমান পশুর সরবরাহ ও বৈচিত্র্যময় পশুর উপস্থিতি, বিশেষ করে উটের মতো বিরল প্রাণীর আগমন, চট্টগ্রামের বৃহত্তম কোরবানির হাটটিকে রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত করেছে। এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দক্ষিণ চট্টগ্রামের কোরবানির পশু বাজারকে এবার দিয়েছে এক নতুন মাত্রা।



