
চট্টগ্রামে আজ (২৫ এপ্রিল) শুরু হতে যাচ্ছে উপমহাদেশের প্রাচীন ক্রীড়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী আয়োজন—ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলার ১১৬তম আসর। বিকাল তিনটায় ঐতিহাসিক লালদীঘির মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরি মধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ করেছেন আয়োজকরা। হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু হবে এ আয়োজন, যা চট্টগ্রামের সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
জব্বারের বলী খেলা শুরু হয় ১৯০৯ সালে, নগরীর বলীপ্রিয় উদ্যোক্তা আবদুল জব্বার সওদাগরের উদ্যোগে। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করা এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রেরণা জোগানো। সেই ধারাবাহিকতায় আজও এই খেলা হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের গর্ব ও উৎসবের প্রতীক।
এবারের আয়োজন শুরু হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বাউল সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। খেলার আগে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল আবহমান বাংলার গান, যাত্রাপালা, ও লালন গীতি। মঞ্চে বলী খেলায় অংশ নিচ্ছেন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বলী খেলোয়াড়রা। প্রতিটি বলীর লড়াই ছিল দর্শকদের মধ্যে চরম উত্তেজনার উৎস।
জব্বারের বলী খেলার পাশাপাশি আজ থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় আছে গ্রামীণ হস্তশিল্প, কাঠের ফার্নিচার, মাটির তৈজসপত্র, খেলনা, খাবারের দোকান, নাগরদোলা, পুতুল নাচসহ নানা বিনোদনের আয়োজন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এবারের আসরেও থাকবে নিরাপত্তার কঠোর ব্যবস্থা। পুরো লালদীঘি চত্বর সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
চট্টগ্রামবাসী ও পর্যটকদের জন্য জব্বারের বলী খেলা এখন শুধুই ক্রীড়ার আসর নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে একটি বৃহৎ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উৎসব। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে দেশীয় ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি ঐতিহ্য রক্ষায় গৃহীত হচ্ছে নানা উদ্যোগ।



