গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, কারণ ইসরায়েল এখনো ৬২০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দিকে মুক্তি দেয়নি। এই বন্দিদের মুক্তির শর্তেই হামাস ছয়জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয় এবং চারজন নিহত জিম্মির মৃতদেহ হস্তান্তর করে। কিন্তু ইসরায়েল তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, যা নিয়ে হামাস কড়া অবস্থান নিয়েছে। হামাসের রাজনৈতিক শাখার সদস্য বাসেম নাঈম জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি নির্ধারিত বন্দিদের মুক্তি না দেয়, তাহলে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।
এ বিষয়ে রোববার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, "অপমানজনক অনুষ্ঠান ছাড়া পরবর্তী জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত" তারা ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি স্থগিত রাখবে। ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, হামাস জিম্মিদের মুক্তির আগে তাদের জনসমক্ষে নিয়ে আসছে এবং বক্তব্য দেওয়াচ্ছে, যা তারা 'অপমানজনক' বলে দাবি করছে। নিহত জিম্মিদের কফিন জনসমাগমের মধ্য দিয়ে বহনের ঘটনাও ইসরায়েলের আপত্তির কারণ হয়েছে।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ আর হতাশা তৈরি হয়েছে গাজায়। একজন ফিলিস্তিনি বাসিন্দা জানিয়েছেন, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি। তিনি আশা করেছিলেন, মুক্তির তালিকায় এবার তার ভাইয়ের নাম থাকবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইসরায়েল তাদের মুক্তির সিদ্ধান্ত স্থগিত করায় সেই আশা ভঙ্গ হয়েছে।
গত ১৯ জানুয়ারি থেকে গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। এর প্রথম ধাপে হামাস ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয় এবং তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আরও বন্দিমুক্তির কথা ছিল। তবে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তে এই চুক্তি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হামাস জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরবর্তী আলোচনায় যেতে প্রস্তুত নয়, যতক্ষণ না ইসরায়েল তাদের শর্ত মেনে ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়। বর্তমানে এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।