চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুরে দীর্ঘ সময় ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণকারী দুই প্রধান নেতা মোহাম্মদ ইয়াছিন ও রোকন উদ্দিনের দাপট ছিল। এই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে জমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অপরাধী সমিতির নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার কারণে প্রশাসনের কার্যক্রম প্রায় শূন্য পর্যায়ে ছিল। কিন্তু সোমবার তিন হাজারের বেশি সদস্যদের নিয়ে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এ অঞ্চলে সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সেনা, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ এবং এপিবিএনের সুসজ্জিত সদস্যরা ভোর সাড়ে ৫টা থেকে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অভিযান শুরু করেন। অভিযানে ৪৮৭ জন সেনা, ৮০০ জন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), ৪০০ জন আরআরএফ চট্টগ্রাম, ৩৩০ জন এপিবিএন সদস্য, ৩৭১ জন র্যাব এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অংশগ্রহণ করে। অভিযানের জন্য হেলিকপ্টার, ১৫টি আর্মার্ড পারসোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি), ১২টি ড্রোন এবং তিনটি ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়।
অভিযানের ফলাফল হিসেবে ১২ জনকে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ আটক করা হয়। এছাড়াও পিস্তল, এলজি, দেশি অস্ত্র, ককটেল, সিসি ক্যামেরা, ডিভিআর ও অন্যান্য পর্যবেক্ষণ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল বলেন, “উদ্ধার করা আলামতগুলো থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় অপরাধী সমিতির কর্মকাণ্ডে নজরদারি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হতো।”
যদিও অভিযান সফলভাবে এলাকার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে সক্ষম করেছে, তবুও মূল অপরাধী ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ইয়াছিন ও রোকন উদ্দিন এই অভিযানে আটক হননি। চট্টগ্রামের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ জানান, “এলাকা বিস্তীর্ণ এবং চারপাশে পালানোর পথ রয়েছে। অভিযানে ১১ জনকে আটক করেছি, বাকি নেতৃত্ব যদি লুকায়, আগামী দিনে তাদেরও ধরে আনা সম্ভব হবে।”
অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ দূর করে সরকারি জমিতে পরিকল্পিত উন্নয়ন কাজের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দীন বলেন, “জঙ্গল ছলিমপুরে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল, এখন তা দূর হয়েছে। ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ইকো পার্কসহ অন্যান্য প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেব।”
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানান, এই অভিযান শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, বরং এলাকার অপরাধ ও সন্ত্রাস নির্মূলের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ি এলাকায় পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জমি দখলমুক্ত করতে এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে পুরো এলাকার স্থায়ী শান্তি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় আরও ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারি চালানো হবে।