বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে মার্কিন অভিযান, বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোরুক ও কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে...

জব্বারের বলী খেলায় চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার বাঘা শরীফ

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘আব্দুল জব্বারের বলী খেলা’র ১১৬তম আসরে চ্যাম্পিয়নের মুকুট জয় করলেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ বলী। শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় নগরীর লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক খেলায় তিনি তারই জেলা সাথী রাশেদ বলীকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা অর্জন করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩০ মিনিট টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে চলা ফাইনাল ম্যাচ শেষে প্রধান রেফারি হাফিজুর রহমান প্রতিপক্ষ রাশেদকে ‘টেকনিক্যাল আউট’ ঘোষণা করেন এবং বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন বাঘা শরীফকে।

বলী খেলা শুরুর আগে থেকেই নানা বয়সী দর্শকের আগমনে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় লালদীঘি ময়দান। ভরদুপুরের রোদ উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের উপস্থিতি জানান দেয় চট্টগ্রামের মানুষ এখনও কতোটা ভালোবাসে এই শতবর্ষী কুস্তি প্রতিযোগিতাকে। এবারের বলী খেলায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন মোট ১২০ জন প্রতিযোগী। এরমধ্যে ৮০ জনকে বাছাই করে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বলী খেলার আয়োজক কমিটির সদস্যরা। খেলাটি পৃষ্ঠপোষকতা করে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন।

বলী খেলা ঘিরে বৃহস্পতিবার থেকেই লালদীঘি ও আশপাশের এলাকাজুড়ে জমে ওঠে বৈশাখী মেলা। প্রায় কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে হাজারো দোকানপাট। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ এই মেলায় অংশ নেয়। জানা যায়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের শারীরিকভাবে সুসংগঠিত করতে ১৯০৯ সালে এই বলী খেলার সূচনা করেছিলেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর। এরপর থেকে প্রতি বছর ১২ বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই খেলা, যা এখন চট্টগ্রামের সংস্কৃতি ও গৌরবের প্রতীক।

বাঘা শরীফ বলীর এই জয় শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া নয়, বরং শতবর্ষী একটি ঐতিহ্যের অংশ হয়ে ওঠার গর্বের বিষয় হয়ে রইল তার জন্য এবং তার জেলার মানুষের জন্য।