রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

কর্ণফুলীতে ফুটবল উৎসব, জমজমাট আয়োজনে গোল্ড কাপ টুর্নামেন্ট শুরু

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে “চরলক্ষ্যা আন্তঃ শহীদ জিয়া গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬”। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে...

জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কর্ণফুলীতে পাঁচ দিনব্যাপী কুকুর টিকাদান

দেশ থেকে মারণব্যাধি জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী উপজেলায় ব্যাপক আকারে কুকুর টিকাদান (এমডিজি) কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় কর্ণফুলী উপজেলা অস্থায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিলনায়তনে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জলাতঙ্কের ভয়াবহতা, প্রতিরোধ, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং জনসচেতনতার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা, বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল্লাহ কায়ছার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমওডিসি ডা. তাসিন মোস্তাফা। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকার এমডিভি সুপারভাইজার মো. মুক্তার উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সভায় জানানো হয়, আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী কর্ণফুলী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে বিশেষ টিম গঠন করে কুকুরকে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পথকুকুর ও পোষা কুকুর, বিড়াল —উভয়কেই টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এতে করে এলাকায় জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক একটি ভয়াবহ প্রাণঘাতী রোগ, যা মূলত সংক্রমিত কুকুর, বিড়াল, বেজি, শিয়ালের কামড়ে মানুষের শরীরে ছড়ায়। একবার রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। অথচ সময়মতো টিকা ও সচেতনতা থাকলে এ রোগ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই কুকুর টিকাদানের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করাও অত্যন্ত জরুরি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা বলেন, কুকুরের কামড়ের পর ক্ষতস্থান সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে। আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেহেতু এখনও পর্যন্ত ইমারজেন্সি সেবা নেয় তাই পার্শ্ববর্তী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা নগরের জেনারেল হাসপাতাল বা চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে এর ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। কোনো ধরনের কুসংস্কার বা অবহেলা না করে সম্পূর্ণ টিকা গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও জানান, জলাতঙ্ক নির্মূলে সরকারের ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণার আলোকে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ একযোগে কাজ করছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, জলাতঙ্ক নির্মূল শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়; এর সঙ্গে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবকদের টিকাদান কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে কর্ণফুলী উপজেলাকে জলাতঙ্কমুক্ত করা সম্ভব।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং আসন্ন কুকুর টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।