আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে প্রণীত এই ইশতেহারকে বিএনপি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরছে।
ইশতেহারে তারেক রহমান একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও নিরপেক্ষ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা বিএনপির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ—আইনসভা, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ—এর ভারসাম্য নিশ্চিত করার কথাও ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক খাতে ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্যমূল্য ও অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের ঘোষণাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তারেক রহমানের ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা রূপরেখা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তকরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলধারায় যুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বিএনপি নেতারা বলছেন, এই ইশতেহার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তারা দাবি করেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ ধানের শীষের পক্ষে রায় দেবে এবং তারেক রহমান ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইশতেহার আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে পারে।