চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের আলম মাঝি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মাতব্বর ঘাট সড়ক থেকে পাইপের গোড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা ও তীব্র যানজট। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শুক্রবার (২২ আগস্ট) থেকে ক্ষুব্ধ জনতা কারখানার পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। শনিবারও চলাচল বন্ধ রাখার পর এলাকাবাসী ঘোষণা দিয়েছে, আগামী রবিবার থেকে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলধা ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান সড়ক আলম মাঝি সড়ক দিয়ে প্রতিদিন এসএম স্টিল, মোস্তফা গ্রুপ, সুপার অয়েল রিফাইনারি, বাংলা কেট বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবুল খায়ের স্টিল কারখানার ভারী ট্রাক চলাচল করে। অথচ সড়কটির ধারণক্ষমতা মাত্র ৫ থেকে ১০ টন, সেখানে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ টনের ট্রাক চলাচল করায় সড়ক দ্রুত ভেঙে গেছে। ফলে এটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, ভাঙাচোরা সড়কে প্রতিদিনই ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। স্কুল শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের পাশাপাশি রোগীরা হাসপাতালে যাতায়াত করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মামুন অভিযোগ করে বলেন, “বড় বড় গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টে যায়, সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ রোগী সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছে না, শিক্ষার্থীরা দেরিতে স্কুলে যাচ্ছে। এমনকি ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।”
শুক্রবার সকালে একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ায় দীর্ঘ সময় সড়ক অবরুদ্ধ থাকে। এতে উত্তেজিত স্থানীয়রা কারখানার সব ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেয়। স্থানীয় ফারুক বলেন, “বহুবার দাবি জানিয়েও কোনো পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। এবার সবাই ঐক্যবদ্ধ, সড়ক সংস্কার ছাড়া আর কোনো আশ্বাসে ট্রাক চলতে দেওয়া হবে না।”
এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা প্রকৌশলী তাসলিমা জাহান জানান, “আলম মাঝি সড়ক সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহে বরাদ্দ পাওয়া যাবে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।”
এদিকে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্রকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, রবিবার থেকে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হলে শিল্পকারখানার উৎপাদন ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।