দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশাল ইজতেমা। বাংলাদেশ দাওয়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াতি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কর্ণফুলী নতুন উপজেলা পরিষদের বিপরীতে বিশাল আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ইজতেমার জন্য ইতিমধ্যে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ মুসল্লির একত্রিত হওয়ার জন্য বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পুরো ইজতেমা মাঠ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ৩৭০টি টয়লেট, এবং একসাথে প্রায় ১৫০০ মুসল্লির জন্য গোসল ও ওজু করার সুব্যবস্থা।
৯১টি থানা এলাকা থেকে আগত অতিথিদের জন্য পৃথক রান্নার স্থান, তিন বেলার খাবারের ব্যবস্থাসহ রাত্রি যাপনের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিরলসভাবে কাজ করবেন। সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইজতেমা মাঠে ১০টি গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পুরো মাঠ জুড়ে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়াতে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার এবং সিসি ক্যামেরা। মুসল্লিদের যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে থাকছে পৃথক মেডিকেল টিম।
আলোকসজ্জা ও বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে রাতের ইজতেমা মাঠকেও নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে। বিশাল এই আয়োজনকে সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন, ইজতেমা আয়োজক কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ইজতেমায় প্রধান অতিথি হিসেবে পাকিস্তান থেকে আগমন করার কথা রয়েছে আন্তর্জাতিক ইসলামী ব্যক্তিত্ব ওবায়েদ রেজা আত্তারী আল মাদানীর।
বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া ইজতেমা শুক্রবার জুমার নামাজের পর অনুষ্ঠিত আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। ইতোমধ্যে মুসল্লিদের মধ্যে ইজতেমা ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আয়োজক কমিটি আশা করছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই প্রথম ইজতেমা বিশ্ব ইজতেমার আমেজ তৈরি করবে এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে ইসলামের দাওয়াতি কাজ আরও ছড়িয়ে যাবে।