চট্টগ্রামের পটিয়া থানা ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজিত ‘পটিয়া ব্লকেড’ কর্মসূচিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আজ বুধবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় পটিয়া থানার সামনে এই কর্মসূচি শুরু হলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গতকাল ছাত্রলীগ নেতা দীপঙ্কর দেকে শান্তিপূর্ণভাবে থানায় সোপর্দ করতে গেলে পুলিশ প্রথমে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় এবং পরে তাদের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালালে কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে পটিয়া উপজেলা সংগঠনের তৌকির ও রাব্বিসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক রিদওয়ান সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, “ছাত্রলীগ নেতাকে থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ আমাদের ওপর বর্বর হামলা চালায়।” জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর পলাশ একদিকে ক্ষমতাসীন দলে সুবিধা নেন, আবার সরকার পরিবর্তনের পর নিজেকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করছেন—এ ধরনের ‘দুই নৌকায় পা রাখা’র কারণে আন্দোলনকারীদের ওপর তিনি উদ্দেশ্যমূলক হামলা চালিয়েছেন।
এদিকে ওসি পলাশের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ মহলেও সমালোচনা উঠেছে। তিনি পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে থাকায় রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে পটিয়া থানার ওসি পলাশ জানান, আন্দোলনকারীরা থানার ভেতরে একজনকে মারধরের চেষ্টা করলে উত্তেজনা শুরু হয়। ধস্তাধস্তির সময় তিন-চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার জেরে চট্টগ্রামের দক্ষিণ অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্দোলনকারীরা ওসি পলাশের অপসারণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে।