বর্ণিল মুখোশ, রঙিন পোশাক আর আলপনার ছোঁয়ায় মুখর ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাঙ্গণ। নববর্ষের প্রথম সকালে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে ফিরলো সেই ঐতিহ্যবাহী যাত্রা, যার প্রতিপাদ্য ছিল—‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। দীর্ঘ তিন দশক পেরিয়ে এবারের শোভাযাত্রায় উঠে এলো প্রতিবাদের রঙিন ভাষা।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় শুরু হয়ে ১০টা ৩০ মিনিটে চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর হয়ে আবার চারুকলায় গিয়ে শেষ হয় বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রা। নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। সঙ্গে ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, যিনি একে বললেন—“বাঙালির প্রাণের উৎসব থেকে এখন এটি হয়ে উঠেছে সকল বাংলাদেশিদের মিলনমেলা।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, কৃষক, রিকশাচালক প্রতিনিধি, নারী ফুটবলার ও ২৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন এই আয়োজনে।
শোভাযাত্রায় ব্যবহার করা হয় প্রতীকী মোটিফ—যেমন ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’ দিয়ে দীর্ঘদিনের নিপীড়নের প্রতিবাদ, ফিলিস্তিনের পতাকা ও তরমুজের ফালি ব্যবহার করে সংহতি জানানো হয় নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি।
ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার রঙে এবার যুক্ত হলো প্রতিবাদ ও সংহতির ভাষা। যারা এসেছিলেন, তারা শুধু নববর্ষ উদযাপন করতে নয়, বরং একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়েই অংশ নিয়েছেন এই বর্ণিল আন্দোলনে।
এই শোভাযাত্রা প্রমাণ করলো—রঙ শুধু সৌন্দর্য নয়, কখনো কখনো তা প্রতিবাদের ভাষাও হয়ে ওঠে।