চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব অবশেষে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে। দীর্ঘদিন ধরে কেইপিজেড ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করা বন্যহাতির দল অবশেষে ফিরে গেছে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল বাঁশখালীর বনের দিকে। বন বিভাগের তৎপরতা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় হাতিগুলো বনে ফিরেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে কয়েক বছর ধরে চলা আতঙ্ক ও প্রাণহানির ঘটনার অবসান ঘটছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আনুমানিক এক যুগ আগে আনোয়ারার পাহাড়ি এলাকা দিয়ে বন্যহাতির আগমন শুরু হলেও গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে কেইপিজেড, দেয়াংপাহাড়, বটতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে শুরু করে হাতির দল। এই সময়ের মধ্যে ২০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে, বহু ঘরবাড়ি ও ফসল নষ্ট হয়। এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষ রাত জেগে পাহারা দিয়ে জীবন পার করছিল।
গত ২২ মার্চ একটি হৃদয়বিদারক ঘটনায় তিন মাসের এক শিশু হাতির আক্রমণে মারা গেলে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ হয় একাধিকবার। এরপর বন বিভাগ সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা এআরটি (Animal Response Team) টিম মোতায়েন করে হাতিগুলোর গতিবিধি নজরে রাখে। জানা গেছে, তিনটি হাতির মধ্যে দুটি নিজে থেকেই বাঁশখালীর বনে ফিরে যায়, আরেকটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় বন বিভাগের দল বনাঞ্চলে ফিরিয়ে দেয়।
বাঁশখালী জলদী রেঞ্জের কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, “হাতিগুলোর গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। যাতে সহজে আবার ফিরে না আসে, সেজন্য তৈলারদ্বীপ এলাকায় এআরটি টিম অবস্থান করছে।” কেইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মুশফিকুর রহমান জানান, “কেইপিজেডের লেকে এখন হাতির দেখা মিলছে না। বনবিভাগ নিশ্চিত করেছে—হাতিগুলো ফিরে গেছে।”
দীর্ঘদিনের উদ্বেগ, আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতির পর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মনে করছেন, এখন অন্তত শান্তিতে ঘুমানো যাবে। তবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।