চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের দক্ষিণ সরল এলাকায় লবণ মাঠের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। শুধু লাঠিসোটা বা রড নয়, সংঘর্ষে ব্যবহার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রও। এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে। বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে লবণ মাঠের খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে পুরোনো বিরোধ ছিল। আজ তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে গুলিবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দক্ষিণ সরল এলাকায় বন বিভাগের খাস জায়গায় লবণ চাষ ও ঘেরের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনসুর আলী ও আবুল হোসেন নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি ঘেরে মাছ চুরি ও নতুনভাবে জমি দখলের চেষ্টা সংঘর্ষের আগুনে ঘি ঢালে। সোমবার বিকেলে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয়। এক পর্যায়ে গুলির ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে মনসুর গ্রুপের আবদুর রশিদ (৩৫) ও আবুল হোসেন গ্রুপের মাহবুব (৪২) রয়েছেন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “প্রথমে হাতাহাতি শুরু হয়, এরপর রড, লাঠি চলে। হঠাৎ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনি। সবাই দৌড়ে পালিয়ে যায়। পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে নারী ও বৃদ্ধও রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেকেই মুখ ঢেকে রেখেছেন—তারা পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক, কারণ তারা হামলাকারীদের ভয়ে রয়েছেন।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। এলাকাবাসীর একাংশ প্রশাসনের কাছে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, দখল-সন্ত্রাস আর আগ্নেয়াস্ত্রের অবাধ ব্যবহার রোধে প্রয়োজন প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম। না হলে এই সংঘাত আরও রক্তাক্ত হতে পারে।