চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বিচার চাওয়ার অপরাধে প্রতিশোধের শিকার হয়েছেন এক নারী। নিজের ওপর হামলার বিচার পেতে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন আমেনা খাতুন (প্রকাশ আনার কলি) নামের ওই নারী। কিন্তু মামলার পরপরই দুষ্কৃতকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এবার তারা আরও সংগঠিত হয়ে বাদীর বাড়িতে ফের চড়াও হয়—লাঠিসোটা, রড, দা-চাপাতি নিয়ে হামলা চালায় বসতবাড়িতে। ভাঙচুর করে ঘরের জানালার কাঁচ, লুটে নেয় স্বর্ণালঙ্কার, হুমকি দেয় হত্যার। অথচ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেও এখনো পাচ্ছেন না কার্যকর কোনো সহায়তা।
ভুক্তভোগী আমেনা খাতুন জানান, পূর্বে জমি নিয়ে বিরোধ এবং চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে তিনি কর্ণফুলী থানার জুলধা এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসপ্রবণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলা (নং ১২৯/২০২৫) দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ ছিল—একাধিক ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে তাদের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে, নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানি করে এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। ওই মামলার পর থেকেই আসামিপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে।
[video width="478" height="850" mp4="https://expressbarta.com/wp-content/uploads/2025/04/VID-20250421-WA0023.mp4"][/video]
পূর্বঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ১৫ ও ১৬ এপ্রিল দুপুরে আবারও হামলা চালায় মামলার আসামিরা। তারা ঘরের জানালায় পাথর নিক্ষেপ করে কাচ ভেঙে ফেলে, বাড়ির বেড়া টিন খুলে নিয়ে যায়, ঘরের ভেতর প্রবেশ করে লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের। সেই সময় পরিবারের নারী সদস্যদের উপর শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, ফাটিয়ে দেওয়া হয় একজনের কপাল। এমনকি, দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। ঘটনাটি নিয়ে কর্ণফুলী থানায় জিডি করলেও, অভিযোগ রয়েছে—সেখানে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বলেন, “হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
হামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ শফি। তিনি জানান, "মারামারির ঘটনা স্থলে আমি উপস্থিত ছিলাম না, তবে দুই পক্ষ থেকে জানতে পেরেছি দুই পক্ষের লোকজন আহত হয়েছে। প্রতিবেশীর মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব চলছে।"
এদিকে বাদী পরিবার জানায়, তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন হুমকি পাচ্ছেন। গ্রামে থাকতে পারছেন না স্বাভাবিকভাবে। বাদী আমেনা খাতুন বলেন, “আইনের আশ্রয় নিয়েছি বলে আজ আমরা শত্রুতে পরিণত হয়েছি। হামলা, লুটপাট, হুমকি—সব কিছুর পরও আমরা ন্যায়বিচার চাই। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া—জানমালের নিরাপত্তা।”
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর একাংশও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করলে বারবার এভাবে হামলা চালানো আর হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
অন্যথায়, বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া মানুষগুলোই হবে দৃষ্টান্তমূলক শিকার—যারা “বিচারের বদলে প্রতিশোধ” পেয়ে যাবে।
চলমান এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, আর আমেনা খাতুনের পরিবার লড়ছে শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য।