চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ইকোপার্ক এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ইরা (৭) হত্যার ঘটনায় অবশেষে রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তি ইরার প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া বাবু শেখ (৫০) বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
গত রোববার (২ মার্চ) দুপুরের দিকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় স্থানীয়রা ইরাকে রক্তাক্ত ও গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করেন। সে কুমিরা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের দরিদ্র রিকশাচালক মনিরুল ইসলামের মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্কুল বন্ধ থাকায় ইরা প্রতিদিনের মতো দাদার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পাওয়া যায়, যা পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তোলে।
উদ্ধারের পর তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, দুর্বৃত্তরা তার শ্বাসনালী কেটে ফেলেছিল। রোববার ও সোমবার দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয় এবং কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছিল। সোমবার রাত পর্যন্ত তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলেও গভীর রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, শ্বাস নেওয়ার যন্ত্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ভোর চারটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রাথমিকভাবে কোনো সুস্পষ্ট সূত্র না পেলেও র্যাব-৭ এবং পুলিশের যৌথ টিম বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শুরু করে। বিশেষ করে চন্দ্রনাথ ধাম পাহাড় এলাকার ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি ইরাকে নিয়ে ওই দিকে যাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরা ফুটেজ দেখে ওই ব্যক্তিকে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া বাবু শেখ হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সীতাকুণ্ড থানা-এর ওসি মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সিসিটিভি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো সীতাকুণ্ড এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।