চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় টানা অতিবৃষ্টির কারণে রাস্তার পাশের একটি দেয়াল ধসে পড়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন দেলোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারী। এ ঘটনায় দুই শিশু আহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আহসানিয়া পাড়া এলাকার অলি হাজীর বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত দেলোয়ারা বেগম স্থানীয় মৃত ফজল আহমেদের স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, টানা বর্ষণের ফলে রাস্তার পাশের পুরোনো দেয়ালটি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিকেলে হঠাৎ করেই দেয়ালটি ধসে পড়লে দেলোয়ারা বেগম তার নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আহত হয়েছে দুই শিশু—শিকলবাহা ২ নম্বর ওয়ার্ডের কোদাইল্লা পাড়া এলাকার শামসু মেম্বারের বাড়ির মো. নজরুলের ছেলে মিজবাহ (১২) এবং একই এলাকার ইয়ার মোহাম্মদের ছেলে মো. সাফাত (৭)। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেয়াল ধসের ঘটনায় গুরুতর আহত নারীকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শামিউর রহমান বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে দেয়াল ধসে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।”
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, “দেয়াল ধসে একজন নারীর মৃত্যু এবং দুই শিশুসহ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিবৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির ফলে দুর্বল দেয়াল, পাহাড়ি ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম সতর্কতা, নিয়মিত পরিদর্শন এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা অপসারণ জরুরি।
শিকলবাহার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অবহেলিত অবকাঠামো কত বড় মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। স্থানীয়রা এখন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এ ধরনের করুণ পরিণতির মুখোমুখি না হতে হয়।