
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন নতুন করে রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা শুধু অর্জনের বিষয় নয়, বরং তা সংরক্ষণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—আর সেই দায়িত্ব সাহসিকতার সঙ্গে পালন করেছে দেশের ছাত্রসমাজ।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশে কার্যত বাকস্বাধীনতা ছিল না। মানুষের মতপ্রকাশ, ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা থেকেই পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে।
বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যারা যতবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে ততবারই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থান খাতে বিএনপির অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এতে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে চিকিৎসাসেবা পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীদের পিছিয়ে রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাসনামলে মেয়েদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কৃষি খাতকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। এজন্য কৃষক ও কৃষাণীদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, যার মাধ্যমে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা পেয়ে তারা নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারবেন।
বক্তব্যের শেষাংশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দল যে প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সমর্থন অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি সবাইকে বিএনপির পাশে থাকার আহ্বান জানান।


