
টানা তিনদিনের ভারী বর্ষণ ও থেমে থেমে বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরী এবং কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ীরা।
বিশেষ করে কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক, শিকলবাহা, চরপাথরঘাটা, চরলক্ষ্যা, ইছানগর ও শাহমীরপুর এলাকার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমে সড়কগুলো অনেকটা চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে ভিজেই কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ছোট যানবাহনের অনেকগুলো মাঝপথেই বিকল হয়ে পড়ে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত মইজ্জ্যারটেক এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে ধীরগতিতে যান চলাচল করায় দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, হালিশহর, একে খান, অলংকার, চকবাজার, জিইসি মোড়, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, কালুরঘাট সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায়ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় ড্রেন উপচে পানি সড়কে উঠে আসায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে প্রতিবার বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়।
কর্ণফুলীর কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বৃষ্টির কারণে ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দোকানের সামনে পানি জমে থাকায় অনেকেই দোকান খুলতে পারেননি। অন্যদিকে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ কাজ না পেয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও জানান, বৃষ্টির মধ্যে সন্তানদের বিদ্যালয় ও কলেজে পাঠাতে উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের হেঁটে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়েছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে। তাই অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধু বৃষ্টি নয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণেও জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করছে। তারা স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কর্ণফুলী উপজেলা ও চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে নতুন করে জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।