বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে মার্কিন অভিযান, বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোরুক ও কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে...

শিক্ষাঙ্গনের মাঠে কোরবানির পশুর বাজার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। কর্ণফুলী আব্দুল জলিল চৌধুরী কৃষি স্কুল ও ডিগ্রি কলেজ মাঠে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ক্রীড়ামোদীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কৃষি স্কুল মাঠে কোরবানির পশুর বাজার বসানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। সোমবার সকাল থেকে মাঠে বাঁশ, ত্রিপল ও অস্থায়ী কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হলে এলাকাজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর বাজার বসানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। কেউ কেউ এটিকে “শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক” বলে মন্তব্য করেন। আবার অনেকে বলেন, খেলাধুলার জন্য নির্ধারিত মাঠকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, “স্কুলের মাঠ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জায়গা। সেখানে পশুর হাট বসানো হলে মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হবে। ঈদের পর মাঠ ব্যবহার উপযোগী রাখতে অনেক সময় লাগবে।”

একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই মাঠে খেলাধুলা করি। পশুর হাট বসলে মাঠ নষ্ট হয়ে যাবে। পরে খেলাধুলা করাও কঠিন হয়ে পড়বে।”

স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, কর্ণফুলীতে খেলার মাঠের সংকট আগে থেকেই রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠগুলোই তরুণদের খেলাধুলার প্রধান ভরসা। সেখানে গরুর হাট বসালে মাঠের ঘাস ও অবকাঠামোর ক্ষতি হতে পারে।

ক্রীড়া সংগঠক মোঃ ফরিদ বলেন, “বর্তমান সময়ে তরুণদের মাঠমুখী করার কথা বলা হচ্ছে। অথচ সেই মাঠই যদি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম খেলাধুলা থেকে আরও দূরে সরে যাবে।”

তবে হাটের ইজারাদার পক্ষ বলছে, প্রশাসনের অনুমোদন নিয়েই সীমিত সময়ের জন্য বাজার বসানো হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর চাহিদা বাড়ায় নির্ধারিত স্থানে বাজার ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে, যাতে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও যানজট সৃষ্টি না হয়।

হাটের ইজারাদার জসিম উদ্দিন বলেন, “আমরা মাঠের কোনো স্থায়ী ক্ষতি হতে দেব না। বাজার শেষে পুরো মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। পশুর বর্জ্য অপসারণ ও জীবাণুনাশক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”

এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, “মহাসড়কে যানজট ও অনিয়ন্ত্রিত পশুর বাজার ঠেকাতে সাময়িকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজার শেষে মাঠ পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তবে প্রশাসনের এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেক স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের দাবি, বিকল্প খোলা জায়গা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহার করা ঠিক হয়নি। তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ শুধু খেলাধুলার স্থান নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।