
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্ণফুলী শাখার অর্থ সম্পাদক এডভোকেট হারুন উর রশীদ বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ভারতের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক করেছে। জুলাই বিপ্লবে ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে তারা দেশ ছেড়ে ভারতের কাছে পালিয়েছে। এখন আবার দেশে ফিরে আসতে চায়। কিন্তু শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের হিল্লা বিয়ে করতে হবে! শুনেছি পাকিস্তান নাকি আওয়ামী লীগকে হিল্লা বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। বাংলাদেশে ফিরতে হলে তাদের আর কোনো পথ নেই।” চট্টগ্রাম কর্ণফুলী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে গণ-ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৩ মার্চ) দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার মইজ্জ্যারটেক চত্বরে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। “শহীদদের ত্যাগ, বিপ্লবীদের সংগ্রাম আমাদের ঐক্যের পথপ্রদর্শক” স্লোগানকে সামনে রেখে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণ ও আহত যোদ্ধাদের সুস্থতা কামনায় সংহতি প্রকাশ করেই এই আয়োজন করা হয়।
কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন ফারুকী ফয়সাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্ণফুলী শাখার সেক্রেটারি নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর, অর্থ সম্পাদক এডভোকেট হারুন উর রশীদ, ছাত্রশিবিরের কর্ণফুলী শাখার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহীম, জামায়াত নেতা রমজান আলী রুমু, এনসিপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য জুবায়ের আলম মানিক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক কমিটির সংগঠক মো. ফয়সাল উদ্দিন, আরিয়ান দিদার, সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, শাহেদুল ইসলাম শাহেদ, সাধারণ শিক্ষার্থী হিমেল, ফাহিম, কামাল হোসেন, মো. আরিফ, আবদুল আউয়াল রানা, রকি, আল আমিন, ইহান ফয়সাল, মুনতাসীর, আরমান, নোমান, মুনতাহা, রিদুয়ান সিদ্দিকী, সিয়াম ইলাহী, সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের যুগ্ম আহ্বায়ক আল মামুন, শাহেদুল আলমসহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় কর্ণফুলী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন ফারুকী ফয়সাল বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকার শাসনের নামে জনগণকে শোষণ করেছে। তারা বিরোধী দলগুলোর ওপর দমনপীড়ন চালিয়েছে, এমনকি রমজান মাসেও বিরোধী দলগুলোর ইফতার মাহফিলে বাধা দিয়েছে। গত বছর দ্রব্যমূল্যের সিন্ডিকেট কারসাজির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। অথচ এখন বাজার স্থিতিশীল। কারণ, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশের মানুষ এই আওয়ামী লীগকে আর চায় না।”
এনসিপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য জুবায়ের আলম মানিক বলেন, “আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে একটি পরিবার সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে বিদেশে শত শত বাড়ি নির্মাণ করেছে। এটি সারা দেশেরই চিত্র। আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে, তাতে তারা এ দেশে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। এদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগের আর কোনো ঠাঁই নেই। আমরা তাদের অবিলম্বে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাই।”
গণ-ইফতার মাহফিলে বক্তারা আরও বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশকে স্বৈরাচারী শাসকদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।



