বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে মার্কিন অভিযান, বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোরুক ও কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে...

কর্ণফুলীতে ৪ লাখ টাকার ডিজেল জব্দ, আটক ৯ চোরাকারবারি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ৪ হাজার লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ৯ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে ব্যবহৃত একটি ওয়েল ট্যাঙ্কারও জব্দ করা হয়।

রবিবার (১০ মে ২০২৬) রাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ মে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম কর্ণফুলী থানার ডাংঙ্গারচর এলাকার ডায়মন্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘কাণ্ডারী-০৬’ জাহাজ থেকে চোরাইভাবে ডিজেল পাচার করে ‘ও.টি আজু শাহ’ নামের একটি ওয়েল ট্যাঙ্কারে স্থানান্তর করা হচ্ছিল।

এসময় কোস্ট গার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাচারকাজে জড়িত ৯ জনকে আটক করেন এবং প্রায় ৪ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত ডিজেলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছে।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কর্ণফুলী নদীপথ ব্যবহার করে বিভিন্ন জাহাজ থেকে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ ও পাচার করে আসছিল। এ চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানোর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। সর্বশেষ অভিযানে চক্রটির একটি বড় চালান জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত ডিজেল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, কর্ণফুলী নদীতে দীর্ঘদিন ধরে তেল চুরি ও চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে বিভিন্ন জাহাজ থেকে তেল সরিয়ে ছোট ট্যাঙ্কার ও নৌযানের মাধ্যমে তা বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। এতে একদিকে যেমন সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে নদীপথে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে।

ডাংঙ্গারচর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “রাতের দিকে নদীতে প্রায়ই সন্দেহজনক নৌযান চলাচল করতে দেখা যায়। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি থাকলে এসব চোরাচালান অনেকটাই কমে আসবে।”

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “দেশের জলসীমায় অবৈধভাবে তেল মজুদ ও চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।”