
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ আকতারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে আলোচিত এই আকতার ছিলেন একাধিক মামলার আসামি।
অভিযানকালে আকতারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় শটগান (এলজি), একটি বিদেশি রিভলবার, হাতলসহ একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি হাতলবিহীন চাইনিজ কুড়াল, একটি চাপাতি, একটি গুলি অপসারণ স্টিক, চারটি পটকা, একটি টর্চার চাবুক এবং নগদ ১৮ হাজার ৯৫০ টাকা। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা এসব অস্ত্র জব্দ করে তাকে হেফাজতে নেন।
স্থানীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম প্রকাশ বদনীর ছেলে মোহাম্মদ আকতার তার মায়ের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় দাপট দেখাতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে জায়গা দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এসব কারণে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী থানায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদক সংক্রান্ত ১০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, সেনাবাহিনী ও কর্ণফুলী থানা পুলিশের সমন্বিত অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী আকতারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে আকতার গ্রেফতারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযানে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



