রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

কর্ণফুলীতে ফুটবল উৎসব, জমজমাট আয়োজনে গোল্ড কাপ টুর্নামেন্ট শুরু

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে “চরলক্ষ্যা আন্তঃ শহীদ জিয়া গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬”। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে...

কর্ণফুলীর ঐতিহ্য সাম্পান খেলা পাচ্ছে সরকারি স্বীকৃতি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী সাম্পান খেলা এবার পাচ্ছে সরকারি স্বীকৃতি। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী বছর থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় সাম্পান খেলার আয়োজন করা হবে। এটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক কার্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হবে বলে জানান তিনি।

সোমবার (১৯ মে) কর্ণফুলী উপজেলার ব্রিজঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন ফারুকী। তিনি বলেন, “সাম্পান খেলা শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আমাদের নদীমাতৃক সংস্কৃতির অনন্য বহিঃপ্রকাশ। কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে চট্টগ্রামের মানুষের আবেগ ও জীবনের সম্পর্ক আছে। তাই এই আয়োজনকে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়া সময়ের দাবি।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলী আব্বাস, যিনি এই খেলাকে ঘিরে প্রতিবছর কর্ণফুলী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়, তার কথা তুলে ধরে বলেন, “সরকারি স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতায় এই খেলাটি আরও বৃহৎ পরিসরে এবং নিয়মিতভাবে আয়োজন সম্ভব হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের ডিএমডি লায়ন হাকিম আলী, যিনি বলেন, “চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা এই আয়োজনে পাশে থাকতে আগ্রহী।” সভাপতিত্ব করেন সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলা উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোজাম্মেল হক, এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইঞ্জিনিয়ার মির্জা মো. ইসমাইল।

বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী শুধুমাত্র একটি নদী নয়, এটি ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক। সাম্পান খেলা সেই ঐতিহ্যের জীবন্ত নিদর্শন। একসময় এই খেলা ছিল স্থানীয় মাঝিদের শক্তি ও দক্ষতার প্রতীক। সময়ের ব্যবধানে সেটি হারিয়ে যেতে বসেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয়দের উৎসাহ, এবং সংস্কৃতিপ্রেমী নাগরিকদের উদ্যোগে খেলাটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।

ফারুকীর ঘোষণার পর কর্ণফুলী অঞ্চলের বাসিন্দারা আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠেন। অনেকে বলেন, “এটি শুধু খেলা নয়, আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয়। এখন এটি জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল।”

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সাম্পান খেলা নিয়মিত আয়োজন করা গেলে তা পর্যটন উন্নয়ন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাঁরা বলেছেন, কর্ণফুলীর বুকে ভেসে বেড়ানো সাম্পান এখন কেবল স্মৃতি নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নিচ্ছে।