
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘জব্বারের বলীখেলা’ এবং ‘কর্ণফুলীর সাম্পান বাইচ’ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কালচারাল হেরিটেজ ক্যালেন্ডারে যুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি জানান, সারাদেশে যেসব লোকজ ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব এখনও অবহেলিত রয়ে গেছে, সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (১৯ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ফারুকী বলেন, “এই বলীখেলা ও সাম্পান বাইচ মানুষের নিজস্ব উদ্যোগে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। এ আয়োজনগুলো কখনো রাষ্ট্রীয় সহায়তার দিকে তাকায়নি, স্বীকৃতির প্রত্যাশাও করেনি। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে এমন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানানো এবং বিশ্বদরবারে তুলে ধরা। এ উৎসবগুলোকে আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করছি, যেন এগুলো একটি জাতীয় পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “আমরা এই মুহূর্তে একটি অস্থায়ী সরকার, কিন্তু সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করছি। স্বাধীনতার পর সম্ভবত এবারই সবচেয়ে বড় পহেলা বৈশাখ উদযাপন হয়েছে। ঈদের চাঁদরাত, বৌদ্ধ পূর্ণিমা এবং অন্যান্য ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলোকে একত্রে উদযাপনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছি—বাংলাদেশের সংস্কৃতি সবার, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়।”
এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে পূর্ণাঙ্গ মিউজিয়ামে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনী, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্মৃতি সংরক্ষণে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা পরিচালনা করে, সেই অনুসারে মিউজিয়াম সাজানো হবে। জাদুঘরের বাজেট ইতোমধ্যে দ্বিগুণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, সিজেকেএসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের পরিচালক সাঈদ খান সাগর, গবেষক আলীউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের সংস্কৃতি শুধু বন্দরনগরী নয়, পুরো বাংলাদেশের ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে। জব্বারের বলীখেলা ও সাম্পান বাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো সরকারি স্বীকৃতি ও সহায়তা পেলে এগুলোর গুরুত্ব আরও বিস্তৃত হবে দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরেও।
ফারুকীর এই ঘোষণাকে চট্টগ্রামের সংস্কৃতিপ্রেমী ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তাদের আশা, এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই আয়োজনগুলো অনুষ্ঠিত হবে এবং তরুণ প্রজন্ম দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হবে।



