
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় চলন্ত চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনটির পাওয়ার কার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে পাশের একটি যাত্রীবাহী এসি বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ট্রেনের দুটি বগি পুড়ে যায়। তবে যাত্রীরা দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল প্রায় ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) গেট এলাকার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ ট্রেনের একটি বগি থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরেকটি বগিতে। এতে একটি পাওয়ার কার বা ইঞ্জিন বগি এবং একটি যাত্রীবাহী এসি বগি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি পোর্ট লিংক গেট অতিক্রম করার সময় হঠাৎ করে একটি বগিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। বিষয়টি দ্রুত গেটম্যানকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরপর দ্রুত ট্রেনটি থামানো হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বগিকে আলাদা করে ফেলা হয়। এ সময় ট্রেনের যাত্রীরা দ্রুত নিচে নেমে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ)-এর সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার আহসান আলী জানান, সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। যাত্রীরা দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বগির মধ্যে একটি ছিল যাত্রীবাহী এসি বগি এবং অন্যটি পাওয়ার কার বা ইঞ্জিন বগি।
ফৌজদারহাট রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ট্রেনের পাওয়ার কার বগি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের কারণে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা অভিমুখী রেললাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সময়মতো ট্রেন থামানো ও দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।



