
২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে, যার প্রভাব পড়েছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে দেখা যায়, রপ্তানি আয় সংশোধনের পর তা ১৪ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার কমে গেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে দেশের মাথাপিছু আয় কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৩৮ ডলার, যা সাময়িক হিসাবের চেয়ে ৪৬ ডলার কম।
বিবিএসের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে কমে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশে দাঁড়ায়। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা আরও কমে ৪ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। রপ্তানি আয়ের এই ধসের ফলে শিল্প খাতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাবে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ থাকলেও চূড়ান্ত হিসাবে তা কমে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সাময়িক হিসাবের চেয়ে চূড়ান্ত হিসাবে রপ্তানি আয়ে ২১ দশমিক ০৭ শতাংশ কম দেখা গেছে। তবে কৃষি খাতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাবে ৩ দশমিক ২১ শতাংশ ছিল, যা চূড়ান্ত হিসাবে বেড়ে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সেবা খাতে সাময়িক ও চূড়ান্ত হিসাবের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই; সাময়িক হিসাবে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা চূড়ান্ত হিসাবে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ০৯ শতাংশে।
বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুর্শিদ মনে করেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পেছনে রপ্তানিই একমাত্র কারণ নয়। বিনিয়োগ কমে যাওয়া, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নীতি সিদ্ধান্তের অসঙ্গতিও দায়ী। তিনি বলেন, “অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা জরুরি এবং এর জন্য প্রয়োজন সঠিক নীতিগত উদ্যোগ।”
অন্যদিকে, চলতি মূল্যে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখ ২ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা, যা সাময়িক হিসাবে ছিল ৫০ লাখ ৪৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া গত তিন অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৯৩ ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে ২ হাজার ৭৪৯ ডলারে দাঁড়ায় এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও কমে ২ হাজার ৭৩৮ ডলারে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিনিয়োগ, রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নীতিগত সমন্বয় এবং অর্থনৈতিক খাতে আরও স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন।



