
পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিনেই স্বামীর হামলায় রক্তাক্ত হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের আগমুহূর্তে কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক সিডিএ আবাসিক এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত ওই নারীর নাম ছেনোয়ারা বেগম। ঘটনার পর তার মোবাইল ফোন থেকে আত্মীয়স্বজনদের কাছে খবর পৌঁছালে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে ছেনোয়ারা বেগমের সঙ্গে ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের বিয়ে হয়। ছেনোয়ারা কর্ণফুলী থানাধীন চরপাথরঘাটা গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসা পাড়ার মৃত শকির আহমদের মেয়ে এবং তিনি সাগরিকা এলাকায় বিটেক নামক প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। বিয়ের ছয় মাস পর হাবিবুর রহমান চাকরির উদ্দেশ্যে ঢাকায় চলে গেলেও স্ত্রী কর্ণফুলীর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তবে সম্প্রতি তাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
আহত ছেনোয়ারার চাচাতো ভাই তারেক হোসেন মুন্না জানান, ইফতারের প্রস্তুতির সময় হঠাৎ ছেনোয়ারার খালার কাছ থেকে ফোন পেয়ে তারা জানতে পারেন, স্বামী তাকে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে। পরে তার মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত সেখানে পৌঁছে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ভিকটিম নিজেই স্বীকার করছে তার স্বামী তাকে এলোপাতাড়ি ছুরি দিয়ে কুপিয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত স্বামী যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত ছেনোয়ারার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী হাবিবুর রহমান পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।



