রবিবার, আগস্ট ২, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, কর্ণফুলীবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওষুধের চেয়ে সচেতনতা,...

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, কর্ণফুলীবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওষুধের চেয়ে সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি ডেঙ্গু শনাক্তে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে কিউর পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার বিনামূল্যে এনএস-১ (NS1) পরীক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা। প্রধান অতিথি ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিদুয়ানুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আরিফুল হক, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুমানা রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৌশিক চাকমা, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সানাউল্লাহ, উপজেলা ফুড সেফটি পরিদর্শক ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর টিটু কান্তি পাল, স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রধান করণীয় হচ্ছে সকলের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের একযোগে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জ্বরের প্রথম দিন থেকেই রোগীকে অবহেলা করা যাবে না। এনএস-১ ও সিবিসি পরীক্ষা করাতে হবে। জ্বরের ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। প্রত্যেক পরিবার যদি নিজ নিজ বাড়ি, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখে, তাহলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে কমে আসবে। প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস মশার মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।”

তিনি জানান, “গত বছর চট্টগ্রামে প্রায় ৮ হাজার মানুষ ডেঙ্গু এবং আরও ৮ হাজার মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।”

ডা. জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, “একটি এডিস মশা একাধিক ব্যক্তিকে কামড়াতে পারে। বর্তমানে ডেঙ্গুর নতুন ভ্যারিয়েন্টের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এখনই সচেতন হতে হবে। নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”

বিশেষ অতিথি ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া বলেন, “ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতা ও দ্রুত রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”

সভায় জানানো হয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র ও যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্তে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেকে অবস্থিত কিউর পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার বিনামূল্যে ডেঙ্গু এনএস-১ (NS1) পরীক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি সীমিত সময়ের জন্য এই ফ্রি পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানানো হয়।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বক্তারা বলেন, “নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখি, জমে থাকা পানি সরাই, এডিস মশা দমন করি—ডেঙ্গুমুক্ত কর্ণফুলী গড়ি।”