বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

কর্ণফুলীতে পল্টন ট্র্যাজেডি দিবসে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার দাবিতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখা। বুধবার (২৮...

‘কোনো ওয়ার্ড উন্নয়নের বাইরে থাকবে না’

শিকলবাহাকে আধুনিক ইউনিয়নে রূপান্তরের প্রত্যয় চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলামের

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নুরুল ইসলাম বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তুলতে হলে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তিনি বলেন, শিকলবাহার বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক যুবক বেকারত্বের হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

নুরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কোনো এলাকা যেন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, শিকলবাহার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সংস্কার, প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন সড়ক নির্মাণ, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বর্ষা মৌসুমে যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শিকলবাহার খাল ও জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গটি স্থানীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেও উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিকলবাহা ও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের খাল পুনঃখনন প্রকল্প নিয়ে সরকারি বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নানা অভিযোগ সংবাদে এসেছে।

নুরুল ইসলাম বলেন, “আমার ইউনিয়নে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো যুবকদের বেকারত্ব।” তাঁর পরিকল্পনায় স্থানীয় যুবকদের কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি বলেন, কর্ণফুলী এলাকায় থাকা বিভিন্ন শিল্পকারখানার সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় যুবকদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা দেওয়া এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু পালন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথাও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়তা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসনকে শিকলবাহার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় পানি জমে যায়। এতে রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য বিদ্যমান ড্রেন ও নালাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি খালের পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন দখল ও বর্জ্য অপসারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নেও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নুরুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।

দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি চালুর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। বিশেষ করে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলেন।

তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক ও যুব সমাবেশের মাধ্যমে তরুণদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কেউ কেউ নুরুল ইসলামের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন। শিকলবাহা ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে রয়েছেন। তাঁর দাবি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হলেও বিভিন্ন সময় ইউনিয়নের অন্যান্য এলাকার মানুষও তাঁর কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন।

আমজাদ হোসেন আরও বলেন, নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা করেন।

তবে এসব বক্তব্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত মতামত এবং নুরুল ইসলামের সম্ভাব্য নির্বাচনী পরিকল্পনা। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ, ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

শিকলবাহা ইউনিয়ন কর্ণফুলী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। ইউনিয়নের সড়ক, খাল, ড্রেনেজ, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে দেওয়া হয়েছিল বলে সংবাদে প্রকাশিত হয়। ([দৈনিক পূর্বকোণ][2])

এ অবস্থায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা বাড়ছে। নুরুল ইসলামের ঘোষিত পরিকল্পনায় অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণ, যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগ** গুরুত্ব পেয়েছে।

নুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হবে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে শিকলবাহার প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা। তাঁর ভাষায়, কোনো ওয়ার্ডকে পিছিয়ে রেখে নয়, ৯টি ওয়ার্ডকে সমানভাবে উন্নয়নের আওতায় এনে একটি আধুনিক, স্বাবলম্বী ও জনবান্ধব শিকলবাহা গড়ে তুলতে চান তিনি।