
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের আওতায় ৫৫টি প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে ২৩৯ কেজি কার্পজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা, মসজিদ, মন্দির, স্কুল এবং সরকারি খাস পুকুরসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের পোনা দেওয়া হয়। রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশসহ বিভিন্ন প্রজাতির কার্পজাতীয় মাছের পোনা এসব জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী পোনা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন দে’র সঞ্চালনায় ও কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিদুয়ানুল ইসলামর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আমিরুল মোস্তফা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাকিবুল ইসলাম এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ছবুর আলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়গুলোকে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জলাশয়ের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মাছ চাষে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়গুলো শুধু পড়ে না রেখে সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে এসব প্রতিষ্ঠানও উপকৃত হবে। পোনা অবমুক্ত করার পর মাছগুলো যাতে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নজর দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারের এ ধরনের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ এবং জলাশয়ের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দায়িত্বশীলভাবে মাছগুলোর পরিচর্যা করলে ভবিষ্যতে এর সুফল পাওয়া যাবে।”
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অবমুক্ত করা পোনাগুলোর যথাযথ পরিচর্যা, জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মাছের নিরাপদ বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি জলাশয়ে নিয়মিত নজরদারি ও পরিচর্যার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‘আমিষেই শক্তি, আমিষেই মুক্তি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্ণফুলীর বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়কে মাছ উৎপাদনের আওতায় আনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মৎস্যসম্পদের ব্যবহার ও উৎপাদন বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



