
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, “জুলাই অভ্যর্থনার পর থেকে কেউ গিয়েছে ব্যবসা করতে, কেউ গিয়েছে টেম্পু স্ট্যান্ড দখল করতে, আর জামায়াতে ইসলামী গিয়েছিল এদেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসার করতে। আমরা ভাগ-বাঁটোয়ারার জন্য রাজনীতি করিনি, কখনো আপস করিনি। অথচ আমাদের ইফতার মাহফিলের টাকার উৎস জানতে চাওয়া হয়। আমরা জীবন উৎসর্গ করেছি ইসলামের জন্য, আপস করলে ইসলাম ধ্বংস হয়ে যেত।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামের বিজয় শুরু হয়েছিল রমজানে বদর যুদ্ধের মাধ্যমে, জামায়াতে ইসলামীরও বিজয় শুরু হবে এই রমজান থেকেই। এজন্য দরকার আমাদের আন্তরিকতা, কর্মস্পৃহা, এবং নিজেদের গঠন করা। আমরা কারো রক্তচক্ষু বা সমালোচনায় ভয় পাই না। রমজানে আমাদের দায়িত্ব মানুষের দোরগোড়ায় দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া।”
অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, বিগত সময়ে আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে আমরা অনেককে ভোট দিয়েছি, অনেক সংবিধান পরীক্ষা করেছি। কিন্তু আমরা চাই না আর কোনো অপারেশন থিয়েটারে পঙ্গু সংবিধান। আমরা চাই চিরশাশ্বত, সুস্থ, আল্লাহর প্রদত্ত সংবিধান— কুরআনের সংবিধান। আজকের এই মাহে রমজানে বদরের যুদ্ধে সাহাবীদের নেওয়া শপথের মতো আমরা শপথ নিই— হয় এই দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে, নয়তো আমরা আব্দুল মালেকের মতো শহীদ হবো। আমাদের অন্য কোনো বিকল্প নেই।”
শনিবার (৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার হল-২১ কমিউনিটি সেন্টার মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ মুছা মেম্বার এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জামায়াত নেতা রমজান আলী রমু। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাঈল হক্কানী, জামায়াতে ইসলামী কর্ণফুলীর আমীর মাষ্টার মনির আবছার চৌধুরী, আলী আহমদ মাষ্টার, এম এ সালাম, ইলিয়াস মেম্বার সহ উপজেলা, বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র শিবির এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কর্ণফুলী জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, “আমরা অনেক দিন পর একজন যোগ্য ব্যক্তি পেয়েছি। এই আসনে আগে যারা ছিলেন, তাদের কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতা চায় না, জনগণের সেবা করতে চায়। তাই আগামী নির্বাচনে আপনারা যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনীত করবেন।”
আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।



