
ইসরায়েল গাজা উপত্যকার বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে। ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। ইসরায়েল দাবি করছে, জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা করতে এবং হামাসকে নতুন আলোচনায় আনতে তারা এই কৌশল নিয়েছে। এর আগে, ইসরায়েল গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা সরবরাহেও অবরোধ আরোপ করেছিল।
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের ফলে গাজার হাসপাতাল, পানি পরিশোধনাগার ও অন্যান্য জরুরি সেবা ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ গাজায় কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হামাস এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েল তাদের জনগণ ও প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইসরায়েলের এই অবরোধকে সমর্থন করছে। মার্কিন প্রশাসন বলছে, হামাসকে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়াতে ও ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দিতে বাধ্য করার জন্য এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। তবে সৌদি আরব, মিসর, কাতারসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে এবং একে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
বর্তমানে কাতারে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনার চেষ্টা চলছে। তবে ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি ও গাজার ওপর নতুন অবরোধ আলোচনার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা মার্কিন ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নমনীয় আচরণ করছে, তবে ইসরায়েলের এই নিষ্ঠুর অবরোধ আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।



