
চট্টগ্রামের কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড)-এর ১১ নম্বর গেটের সামনের পাহাড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকেলে লাগা এই আগুনে শতাধিক গাছপালা পুড়ে গেছে। কেইপিজেডের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন, তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হাতির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ে আগুন লাগলে বন্য হাতির দল বিরক্ত হয়ে লোকালয়ে নেমে আসে, যার ফলে মানুষের জানমালের ক্ষতি হয়। গত সাত বছরে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় হাতির হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত শনিবার রাত ২টার দিকে বড় উঠান এলাকায় এক শিশুকে হাতি আক্রমণ করে হত্যা করে।
কেইপিজেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মুশফিকুর রহমান জানান, ‘সোমবার বিকেলে একটি কারখানার পাশে আগুন লাগে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো শ্রমিকের সিগারেটের আগুন থেকে এটির সূত্রপাত হয়েছে। তবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।’
বন বিভাগের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কেইপিজেড এলাকায় বন ও পাহাড় কাটা হচ্ছে, যা হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয়রা বিদ্যুতের তারের মাধ্যমে হাতিকে আঘাত করার চেষ্টা করেছিল এবং বনে আগুন লাগিয়ে হাতিদের বিরক্ত করেছে। ফলে হাতিরা আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে লোকালয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে।
স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, হাতির চলাচলের পথ সংরক্ষণ, বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা প্রতিরোধ এবং বন্যপ্রাণী সুরক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায়, আগামী দিনে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।



