
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যেই নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণের বিধান রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে চায় দলটি।
দলীয় সূত্র বলছে, সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত মুখকে সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র, আইন, অর্থ, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য ও সমাজকল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা চলছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের নাম আলোচনায় রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে সম্ভাব্য হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম প্রায় নিশ্চিত বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সালাউদ্দিন আহমেদের নাম বিবেচনায় রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ড. এম এ মুহিতের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে, যিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ততার জন্য পরিচিত।
দলীয় হাইকমান্ড সূত্রে আরও জানা গেছে, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আন্দালিব রহমান পার্থ, কায়েকোবাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি, ইকবাল হাসান টুকুসহ আরও অনেক সিনিয়র নেতা ও নির্বাচিত সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিমের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া কয়েকজন পিএইচডিধারী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, নতুন সরকার হবে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গঠিত। রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে প্রস্তুত বিএনপি—এমনটাই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। এখন সবার নজর ১৬ ফেব্রুয়ারির শপথ অনুষ্ঠান ও পরবর্তী মন্ত্রিসভা ঘোষণার দিকে।



