
আগামী ১০ মে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সমাবেশ’। এই সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি সংগঠনিক তৎপরতা বেড়েছে বহুগুণে। ৭ মে কর্ণফুলী উপজেলার ক্রসিং মেগা কনভেনশন হলে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারা একযোগে ঘোষণা দিয়েছেন—এবারের সমাবেশ হবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জনসমাগমের একটি।
প্রস্তুতি সভার প্রধান অতিথি, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির (চট্টগ্রাম বিভাগীয়) সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, “এই সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি তারুণ্যের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের মাইলফলক হয়ে থাকবে। যতদিন পর্যন্ত জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত বিএনপি রাজপথ ছাড়বে না।” তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ এখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায়, স্থানীয় নির্বাচন নয়। তাই আমরা আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে, না হলে বিএনপি আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে।”

প্রধান বক্তা হিসেবে ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “এই সমাবেশ প্রমাণ করবে, তরুণ প্রজন্ম দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থা রেখেছে। যারা দলের ভেতর বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি স্পষ্টভাবে দলের কর্মীদের হুঁশিয়ার করে বলেন, “তারেক রহমানের নির্দেশনা বিনা বাক্যে মেনে নিতে হবে—এটাই দলীয় শৃঙ্খলা।”
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, “চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলা থেকে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে মিছিল সহকারে যোগ দেবেন। যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল সমন্বিতভাবে এই আয়োজন করলেও দক্ষিণ জেলা বিএনপি সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।”
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন বলেন, “এই সমাবেশ তরুণদের ভোটের অধিকার আদায়ের ডাক। আমরা আশা করি এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যাত্রাপথে বড় ভূমিকা রাখবে। সমাবেশে অংশ নিতে প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায় থেকে মিছিল আকারে আগমন নিশ্চিত করা হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি’র নবগঠিত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, যুগ্ম আহ্বায়কগণ মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, আজিজুল হক চেয়ারম্যান, আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, জামাল হোসেন, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, রেজাউল করিম চৌধুরী নেছার চেয়ারম্যান, সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু, সদস্যগণ বদরুল খায়ের চৌধুরী, এস এম মামুন মিয়া, আমিনুর রহমান চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মাস্টার মো. লোকমান, শওকত আলম চৌধুরী, এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, হাজী মো. রফিকুল আলম, মাস্টার মো. রফিক, রাজীব জাফর চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, সরওয়ার হোসেন মাসুদ, জাহাঙ্গীর কবির, হাজী মো. ওসমান, জাগির আহমদ, আমিনুল ইসলাম, বাঁশখালী উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব রেজাউল হক চৌধুরী রেজা, বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপি’র আহ্বায়ক শহিদুল্লাহ চৌধুরী, সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব গোলাম রসুল মোস্তাক, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর, জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মহসিন চৌধুরী রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনজুর আলম তালুকদার, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. মহসিন খান তরুণ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন মানিক, নবগঠিত জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্যগণ মোজাম্মেল হক বেলাল, সালাহউদ্দিন চৌধুরী সোহেল, শেফায়েত উল্লাহ চক্ষু, ফৌজুল কবির ফজলু, মো. শাহীনুর শাহীন, মো. ইসমাইল, ইফতার হোসেন চৌধুরী ইফতু, খন্দকার হেলাল উদ্দিন (সিআইপি), জাবেদ মেহেদী হাসান সুজন, মো. ইব্রাহিম, দিল মোহাম্মদ মনজু, এম মনছুর উদ্দিন, মো. ফারুক হোসেন, সালেহ জহুর, দেলোয়ার আজিম, শাহাদাত হোসেন সুমন, দেলোয়ার হোসেন, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হক, জাসাসের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, কৃষকদলের সদস্য সচিব মীর জাকির আহমেদ, মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী আফরোজা বেগম জলি, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কগণ নুর শাহেদ খান রিপন, ইসমাইল বিন মনির, তারেক রহমান, আনিছুর রহমান আনাছ ও মোফাচ্ছল হোসেন জুয়েল।
দক্ষিণ চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সমাবেশ সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের নতুন গতি তৈরি করবে। একইসাথে তরুণদের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দলের প্রতি তাদের আস্থা ও প্রত্যয়ের প্রকাশ ঘটবে। এ সমাবেশ ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামজুড়ে বিএনপির মধ্যে যেমন সজীবতা এসেছে, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করার প্রস্তুতিও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।



