
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে এক অসহায় পরিবারের জমি দখল ও বীমা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী ওই নেতা এবং তার অনুসারীরা জোরপূর্বক বসতভিটায় দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করলে বাধা দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন পরিবারটির সদস্যরা। স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হলেও প্রভাবশালী নেতার অনুরোধে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
বাধ্য হয়ে ২৪ মার্চ কর্ণফুলীর মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান আদালতে ফৌজদারি অভিযোগ (সিআর ১৭১/২৫) দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন গোয়েন্দা বিভাগকে। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিবাদের জেরে একই এলাকার বাসিন্দা বিএনপি নেতা ইদ্রিস হায়দার ও তার সহযোগীরা সায়েদুরের পরিবারের ওপর হামলা চালান। গত ১৫ মার্চ কর্ণফুলী উপজেলা বড়উঠান ইউনিয়ন শাহমিরপুর ৫ নং ওয়ার্ড হায়দার মুন্সীর বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাট চালানো অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে সায়েদুরের ভাই নাজিম উদ্দিন আহত হন এবং বৃদ্ধা মা শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিএনপি নেতা ইদ্রিস হায়দার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছেন। একসময় ছাত্রদলের কর্মী থাকা ইদ্রিস ১৯৯৬ সালের যুবদল নেতা বদিউল হক হত্যা মামলার বাদী হলেও পরে টাকার বিনিময়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেন, যার ফলে বিচার প্রক্রিয়া থেমে যায় এবং তাকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তীতে ২০১০ সালে বিএনপির এক সিনিয়র নেতার ছত্রছায়ায় আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন ইদ্রিস। পাশাপাশি বীমা কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ নিয়ে এলাকার বহু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ডিপিএস ও বীমার মাসিক কিস্তির অর্থ অফিসে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। টাকা ফেরত চাইলে তিনি দলীয় প্রভাব দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এলাকাবাসী ও সাধারণ বিএনপি কর্মীরা বলছেন, ইদ্রিস হায়দার ও তার অনুসারীরা ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই নেতার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



