
প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব, শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তা নিয়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী আয়োজন। ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার উপভোগের পাশাপাশি উপজেলার ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান এইচ. এ. খাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিদুয়ানুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৌশিক চাকমা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল্লাহ কাউছার, বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা শাহেদুল আলম খাঁন, প্রধান শিক্ষক কানিজ ফাতেমা এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সরাসরি সম্প্রচারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ। জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারীদের গল্প ও অর্জন তাদের মাঝে নতুন করে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা একজন শিশুর জীবনের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের শুধু একাডেমিক শিক্ষায় নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সামনে সাফল্যের বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে। তারা জানতে পারে, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কীভাবে দেশের জন্য অবদান রাখা যায়। আমরা চাই কর্ণফুলীর শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করুক।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৌশিক চাকমা বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা পদক শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি শিশুদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার নাম। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি সৃজনশীল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কানিজ ফাতেমা জানান, শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছে। অনেকেই জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্তদের দেখে ভবিষ্যতে নিজেদেরও এমন অর্জনের স্বপ্ন দেখছে।
অনুষ্ঠান শেষে ইউএনও মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্ণফুলী উপজেলার ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে এবং সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে উদ্বুদ্ধ করতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে একই মঞ্চে এনে কর্ণফুলীতে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি সমাজের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা। তাদের বিশ্বাস, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, দায়িত্ববোধ এবং দেশ গড়ার প্রত্যয় জাগিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



