মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, কর্ণফুলীতে প্রবল স্রোত

চট্টগ্রামের রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় খুলে দেওয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে জলকপাট খুলে দেওয়ার পর...

কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, কর্ণফুলীতে প্রবল স্রোত

File Picture

চট্টগ্রামের রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় খুলে দেওয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে জলকপাট খুলে দেওয়ার পর প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কর্ণফুলী নদীতে সৃষ্টি হয়েছে প্রবল স্রোত, যা নিয়ে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। হ্রদের পানি ধারণক্ষমতার সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগেভাগেই জলকপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্র মতে, কাপ্তাই হ্রদের স্বাভাবিক সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল (মিন সি লেভেল) হলেও এ বছর পানি ১০৫ এমএসএলে পৌঁছাতেই জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগাম এ সিদ্ধান্তের ফলে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল বড় ধরনের প্লাবন থেকে রক্ষা পেতে পারে।

জলকপাট খুলে দেওয়ার পর কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন অংশে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, পতেঙ্গা ও নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নদীতে নৌযান চলাচলকারী মাঝি ও জেলেদেরও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কাপ্তাই নতুন বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. আকরাম হোসেন বলেন, “বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে। তবে এ বছর আগেভাগে পানি ছেড়ে দেওয়ায় অন্তত আকস্মিক প্লাবনের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাছের খান বলেন, “গত বছর পানি ছাড়তে দেরি হওয়ায় আমার দোকানে পানি উঠে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এবার আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা কিছুটা স্বস্তিতে আছি।”

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, “টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের পানির কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছিল। বাঁধের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি এড়াতে ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

এদিকে, কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট খুলে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীর তীরে অনেক উৎসুক মানুষকে ভিড় করতে দেখা যায়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবল বেগে নেমে আসা পানির ভিডিও ও ছবি শেয়ার করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কর্ণফুলী নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া নদীতে না নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক পানি বৃদ্ধির ঘটনা বেড়েছে। ফলে কাপ্তাই হ্রদ ও কর্ণফুলী নদী ব্যবস্থাপনায় আগাম পরিকল্পনা এবং কার্যকর সমন্বয় এখন সময়ের দাবি।

কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী মানুষের জন্য বাড়তি সতর্কতার বার্তাও বয়ে এনেছে। আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার ওপরই নির্ভর করবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।