বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে মার্কিন অভিযান, বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোরুক ও কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে...

জুলধা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণের প্রতিবাদে ডাঙ্গারচরে মানববন্ধন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডাঙ্গারচর এলাকায় জুলধা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তীব্র পরিবেশ দূষণের প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। ৩০ এপ্রিল সকাল ১০টায় ঘাট চৌধুরীর বাড়ি ও হাজী ছমদ মিয়ার বাড়ি রক্ষা কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, বাসন-কোসন, কলসি নিয়ে তাঁরা সরব উপস্থিতি জানান দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জুলধা ৩০০ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বসতি সংলগ্ন স্থানে স্থাপন করায় দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এলাকাবাসী নানা সমস্যায় ভুগছেন। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহৃত তেল (স্লাইস) থেকে নির্গত ধোঁয়ায় দেয়ালে ফাটল ধরেছে, শব্দ দূষণে রাতে ঘুমানো দায় হয়ে পড়েছে। তীব্র বায়ু ও পানি দূষণে শিশু ও বৃদ্ধরা নানা শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বর্ষায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, আবার গ্রীষ্মে পানি নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপ থেকেও পানি ওঠে না।

স্থানীয়রা আরও জানান, চাষের জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহৃত কালো তেল (স্লাইস) বিক্রি করে জীবনধারণের যে সুযোগ তারা পেয়েছিলেন, তাও বর্তমানে বঞ্চিত হচ্ছেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপি নামধারী একটি গ্রুপ — সালাউদ্দিন-অলি আহমদ গং — জোরপূর্বক স্লাইস ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হয়ে পড়েন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দক্ষিণ জেলা মুখপাত্র মাহবুবা ইলা খাদিজা তোহফা, ছাত্রনেতা ইমরান হোসেন তারা, মিজানুর রহমান খোকা, সেলিম রেজা, যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন না দিলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেওয়া হয়।

মানববন্ধন শেষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এলাকাবাসী ও সালাউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্ণফুলী থানা পুলিশের ১০–১২ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে ‘একর্ণ ইনফ্রাস্ট্রাকচার সার্ভিসেস লিমিটেড’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের ব্যবহৃত ফার্নেস তেল প্রতি মাসে ১.৫ থেকে ২ লাখ লিটার পর্যন্ত জমা হয়, যা আগে স্থানীয়রা প্রতি লিটার ৫ টাকায় কিনে ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি করতেন। বর্তমানে এ ব্যবসা থেকে তারা একেবারেই বাদ পড়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপারেশন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় কোনো পর্যবেক্ষণ নেই, যা পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারির অভাবে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছেছে। মানববন্ধন থেকে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।